Posts

কনস্টান্টিনোপলের পতনের গুরুত্ব বা তাৎপর্য

কনস্টান্টিনোপলের পতনের গুরুত্ব বা তাৎপর্য    1453 সালে অটোমান তুর্কিদের আক্রমণের সামনে কনস্টান্টিনোপলের পতনকে একটা রাজনৈতিক যুগ বিভাজন হিসেবে ধরা হয়। কনস্টান্টিনোপলের পতনের সঙ্গে সঙ্গে পূর্ব ইউরোপের হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা বাইজেনটিয়াম রোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। এই পতনের পর স্বাভাবিক যুগ ধর্ম অনুযায়ী সেখানে চলেছিল লুণ্ঠন, হত্যা ও নারী নিগ্রহ, সেন্ট সোফিয়া গির্জা পরিণত হয়েছিল একটি মসজিদে। খ্রিস্টীয় জগৎ-এর পূর্ব বাহু অপসিত হয়েছিল। এবং এই ঘটনার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি ছিল ইসলামের সম্প্রসারণ। মোহাম্মদ দা কংকারার(শাসক) যেভাবে তুর্কি সাম্রাজ্যের আয়তন বাড়ি এসেছিলেন তার ফলে ইউরোপ ও এশিয়ার এক বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তুর্কি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সামরিক শক্তিতে বলিয়ান তুর্কিরা ইসলাম ধর্ম ওঐসলামিক সাম্রাজ্যের প্রসার কে তাদের লক্ষ্য বলে মনে করত এবং বিপক্ষের প্রতিরোধ এতই দুর্বল ছিল যে লাতিন ওয়েস্ট কে বহুকাল তুর্কিদের সামনে সন্তুস্ত থাকতে হয়েছিল। কনস্টান্টিনোপলের পতন একটা নতুন রাষ্ট্র এর রাজনৈতিক ও সাম্রাজ্যবাদী ক্রিয়া-কলাপ এর পরিপ্রেক্ষিতে শুরু হয় ইউরোপের নতুন স্বরূপ নি...

কোরিয়া সংকটে ভারতের ভূমিকা

Image
ঠান্ডা যুদ্ধের প্রভাব পরেছিল দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার রাষ্ট্র কোরিয়ার উপরেও। উনবিংশ শতকের শেষ দিক থেকে রাশিয়া, চীন এবং জাপানের সাম্রাজ্যবাদী কার্যকলাপের কেন্দ্র কোরিয়া ১৯১০ থেকে জাপানের অধিকারে ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন মিত্রপক্ষ কোরিয়ার স্বাধীনতা প্রদানের বিষয়ে নানান আলাপ আলোচনা করে যদিও কোন সুস্পষ্ট গ্রহণযোগ্য মত এই বিষয়ে পাওয়া যায়নি। যুদ্ধান্তে পরাজিত জাপান উত্তর কোরিয়ার হাতে ক্ষমতা অর্পন করে এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর হাতে জাপান আত্মসমর্পন করে। ৩৮ ডিগ্রী অক্ষাংশ বরাবর উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সীমারেখা টানা হয়। ঐতিহাসিক পিটার কালভোকুরেশি লিখেছেন যে ৩৮ ডিগ্রী অক্ষাংশ প্রশাসনিক কারণে তৈরী বিভাজন রেখা হলেও শীঘ্রই এই রেখা বৃহৎ শক্তিগুলির টানাপোড়েনে রাজনৈতিক রেখায় পরিণত হয়।

কোরিয়া সংকট কী

কোরিয়া সংকট কী / কি ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে উত্তর কোরিয়ার বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়া আক্রমণ করলে আমেরিকার উদ্যোগে পশ্চিমী শক্তিগুলি দক্ষিণ কোরিয়াকে এবং রাশিয়া ও চিন উত্তর কোরিয়াকে সমর্থন করে। ফলে তিন বছর দীর্ঘ এক যুদ্ধ চলেছিল। উত্তর কোরিয়ার আক্রমণ ও তার ফলে সৃষ্টি পরিস্থিতি পরিচিত কোরিয়া সংকট নামে।

দ্বি মেরুকরণ কাকে বলে

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের পর বিশ্বের রাজনীতিতে দুইটি প্রবল প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয় । এই দুই রাষ্ট্র ছিল রাশিয়া ও আমেরিকা । পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্র এই দুই রাষ্ট্রকে সমর্থন করলে পৃথিবী দুইটি মেরুতে বিভক্ত হয় । বিশ্ব রাজনীতির এই বৈশিষ্ট্যকে বলা হয়   দ্বি মেরুকরণ । দ্বি-মেরুকরণ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন ঐতিহাসিক আর্লন্ড টয়েনবি । 

সুয়েজ সংকটে ভারতের ভূমিকা

Image
সুয়েজ সংকটে ভারতের ভূমিকা। ১৮৬৯ সালে সুয়েজ খাল চালু হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও ভৌগোলিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়, বিংশ শতকে তেলের খনি আবিষ্কৃত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। ১৯৪৮ সালে স্বাধীন ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্ম হয় এবং আরব ইজরায়েল দ্বন্দ্ব শুরু হলে মধ্য প্রাচ্যের রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত মধ্য প্রাচ্যে ব্রিটিশ প্রাধান্য থাকলেও যুদ্ধান্তে গ্রেট ব্রিটেন মধ্য প্রাচ্য থেকে সরে আসে, ফলে একটা শূন্যস্থান তৈরী হয়।

মার্শাল পরিকল্পনা কি

Image
মার্শাল পরিকল্পনা কি অথবা, মার্শাল প্ল্যান বলতে কী বোঝ? Marshall Plan অর্থনৈতিক দুরাবস্থার সুযোগ যাতে পশ্চিম ইউরোপে সাম্যবাদের প্রভাব বিস্তৃত না হয় সে-কারণে এই অঞ্চলের পুনরুজ্জীবনের জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব জর্জ সি. মার্শাল ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ৫ জুন মার্কিন সাহায্যের মার্শাল পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তার এই প্রস্তাব মার্শাল পরিকল্পনা বা মার্শাল প্ল্যান নামে পরিচিত। মার্শাল পরিকল্পনা ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ৫ জুন গৃহীত হয়   ।   মার্কিন রাষ্ট্রপতি ট্রুম্যান ‘একই আখরোটের দুইটি ভাগ' হিসাবে মার্শাল পরিকল্পনাকে অভিহিত করেছিলেন। মার্শাল পরিকল্পনার মাধ্যমে ইউরোপের রাষ্ট্রগুলিকে অর্থসাহায্য করার মার্কিন পরিকল্পনাকে তৎকালীন রুশ বিদেশমন্ত্রী মলোটভ 'ডলার সাম্রাজ্যবাদ' হিসাবে অভিহিত করেছিলেন। 

প্রাচীন বৈদিক যুগে আর্য সমাজে জাতিভেদ প্রথা ছিল ?

Image
প্রাচীন বৈদিক যুগে আর্য সমাজে জাতিভেদ প্রথার অস্তিত্ব নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ঋক বৈদিক যুগে আর্য সমাজে জাতিভেদ প্রথা ছিল না বলে যে সব ঐতিহাসিক মনে করেন তাদের মধ্যে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র, এই চার বর্ণের উল্লেখ ঋকবেদের দশম মন্ডলে অন্তর্গত পুরুষ শুক্ত সূত্রে পাওয়া যায়। এতে বলা হয়েছে আদি পুরুষ মুখ থেকে ব্রাহ্মণ, বাহু যুগল থেকে ক্ষত্রিয়, উরুদয় থেকে বৈশ্য এবং পদযুগল থেকে শূদ্রের উদ্ভব। প্রাচীন শুক্ত-গুলিতে যোদ্ধা ও পুরোহিতদের উল্লেখ ছিল। কিন্তু যুদ্ধ ব্যবসায়িক শ্রেণীর উল্লেখ নেই। প্রকৃতপক্ষে তাদের মতে, আর্যদের আগমনকালে তিনটি সামাজিক শ্রেণী ছিল যোদ্ধা, পুরোহিত ও সাধারণ মানুষ । পেশাও বংশানুক্রমিক ছিল না এবং তিনটি সামাজিক শ্রেণীর মধ্যে বিবাহ নিযুক্তি ছিল না এমনকি পঙ্গু ভজনের ছিল না কোন টেবু (রীতি) সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা জন্য এই জাতিভেদ না থাকলেও বর্ণভেদ ছিল এবং বর্ণভেদ ছিল গাত্র বর্ণের দোতক তা জাতির সমার্থক ছিল। জাতিভেদ প্রথা কিন্তু বিরুদ্ধবাদীদের মতে, ঋক বৈদিক যুগে ব্রাহ্মণের পেশা ছিল বংশগত এবং রাজন্য শব্দের উল্লেখ থেকে অনুমান করা হয় যে সে সময় অস্ত্রের ...